Visit our YouTube channel Visit Now Watch Now!

আকাশের সীমানা

 


নিউটনের গবেষণা:


 ১৬৬৫ সাল। সে সময়ে ইউরোপে মহামারী আকারে প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়ল। তখন কেমব্রিজে গবেষণা করছিলেন স্যার আইজ্যাক নিউটন। তখন নিতান্তই এক সাধারণ তরুণ তিনি। 

প্লেগের কারণে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ২ বছর ছুটি দিল। তাই নিউটন তাঁর বাসায় ফিরে এলেন। তিনি সে সময় মহাকর্ষ বল ও প্রকৃতির মৌলিক নীতিগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলেন। 

তিনি এই ২ বছরের মধ্যেই নিজের অজান্তেই এমন কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছেন যার মূল্য তিনি নিজেও জানেন না। তাঁর তত্ত্ব থেকেই বেরিয়ে এলো যে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এটি হয়ে উঠল চিরায়ত বলবিজ্ঞানের প্রধান নীতিগুলোর একটি।

 কিন্তু নিউটন খুব একটা সুখী মানুষ ছিলেন না। আর তাঁর ভালো বন্ধু বলতেও কেউ ছিলনা। তাই তিনি যে কারো সাথে তাঁর তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন এমনটাও হয়ে ওঠেনি। 
২৫ বছর নিজের তত্ত্ব লোকচক্ষুর আড়ালে রাখলেন। সে সময় জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ভ হ্যালি নিউটনের সাথে দেখা করতে গিয়ে বুঝলেন তাঁর তত্ত্বের মূল্য।
 তাই তিনি নিউটনের গবেষণাকর্ম একটি বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নিলেন । 
এর ফলেই আমরা পেলাম যুগান্তকারী বই "Principia Mathematica" যা ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

এর পরবর্তী সময়ে রাতের আকাশ নিয়ে বিতর্ক যেন থামছিলইনা। আর বর্তমানেও বিদ্যমান। আসুন সেটিই দেখা যাক।  

রাতের আকাশ: 


রাতের বেলা আকাশের দিকে তাকালে তার সৌন্দর্য আমাদের মোহিত করে। কখনো রাতের অন্ধকার ভেদ করে আকাশ ছেয়ে যায় চাঁদের জ্যোৎসনায়। এগুলোই সাহিত্যকে রোমান্টিকতা দান করেছে।  
 কিন্তু জ্বলন্ত প্রশ্নটি হলো এই আকাশের কি কোনো সীমা আছে? 

নিউটন বনাম রিচার্ড বেন্টলি:


১৬৯২ সালে ধর্মযাজক রিচার্ড বেন্টলির কাছ থেকে এক বিব্রতকর চিঠি পান নিউটন। তিনি চিঠিতে নিউটনের কাছে তাঁর তত্ত্বের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকটি তুলে ধরলেন। 
তিনি নিউটনকে প্রশ্ন করলেন আকাশ যদি সসীম ও সুষম হয় তাহলে মহাবিশ্বের সকল গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র পরষ্পরকে আকর্ষণ করবে এবং একসময় এগুলো মিলিত হয়ে এক বৃহৎ নক্ষত্রে পরিণত হবে। সুতরাং এই মহাবিশ্ব ভেঙে পড়বে।

 কিন্তু তা তো আমরা হতে দেখছিনা। নিউটন একটি সসীম, স্থিতিশীল মহাবিশ্বে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাঁকে তাঁর ধারণা পাল্টাতে হলো। তিনি এই প্রশ্নের একটি ধূর্ত উত্তর দিলেন।

 নিউটন বললেন যে মহাবিশ্ব অসীম এবং সব দিকেই গড়পড়তা সুষম। ফলে একটি নক্ষত্রের উপর অসীম থেকে আসা একাধিক নক্ষত্রের মহাকর্ষ বল একটা আরেকটাকে বাতিল করে দেয়। ফলে মহাকর্ষ বল হয়ে পড়বে শূন্য। 
উত্তরটি খুব চাতুর্যপূর্ণ হলেও এখানে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। 
মহাবিশ্ব সব দিকে গড়পড়তা সুষম হতে পারে তবে সব বিন্দুতে নিখুঁতভাবে সুষম নাও হতে পারে। এর ফলে একটি নক্ষত্রের উপর অসীম থেকে আসা বলগুলোর যোগফলের একটু হলেও মান পাওয়া যাবে। 
মহাবিশ্ব খুবই ধীরে ধীরে আবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং ভেঙে পড়ার কথা। নিউটনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল মহাবিশ্ব অসীম এবং সব দিকে গড়পড়তা সুষম। 
আর ঈশ্বর মাঝে মাঝে জ্বলজ্বল করা নক্ষত্রগুলোকে হেঁচকা টান মারেন যাতে করে মহাবিশ্ব ভেঙে না পড়ে। 

অলবার্সের প্যারাডক্স:


মহাবিশ্ব যদি অসীম হয় তাহলেও একটা সমস্যায় পড়তে হয়। জার্মান দার্শনিক হেনরিখ অলবার্স ১৮২৩ সালে তাঁর তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন যে মহাবিশ্ব অসীম হলে চারদিক থেকে অসীম পরিমাণ আলো আমাদের চোখে এসে পড়ার কথা। ফলে রাতের আকাশও দিনের মতো উজ্জ্বল হওয়ার কথা।

 কিন্তু রাতের আকাশ কেনো কালো? 
এর উত্তর আবার তিনি নিজেই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তবে তা সদুত্তর ছিলনা। 

অলবার্স বললেন আলোগুলোকে ধূলিকণার মেঘ শোষণ করে নেয়। এ কারণে তা আমাদের চোখে এসে পড়েনা। উত্তরটি মনগড়া ছিল। 

কারণ ধূলিকণা তা শোষণ করলে একসময় উত্তপ্ত হয়ে উঠবে এবং আলো বিকিরণ করবে। ফলে আবার আলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হতে পারবেনা।



 এর সবচাইতে ভালো উত্তর দিলেন ১৮৪৮ সালে সৌখিন জ্যোতির্বিদ এডগার অ্যালান পো। একজন সাহিত্যিক হিসেবে এই প্যারাডক্সটা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। 
তিনি বললেন মহাবিশ্ব যদি অসীম হয় তাহলে এর কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টির সময়সীমা নেই। তাহলে আমাদের কাছে অসীম অতীত থেকে আলো আসতে হবে।

 কিন্তু অসীম অতীত বলতে তো কিছু নেই। এ কারণে অসীম স্থান হতে আলো আমাদের চোখে এসে ধরা দেয়না। 

সুতরাং মহাবিশ্বের অবশ্যই একটা সৃষ্টি রয়েছে। এর ফলেই পরবর্তীতে "বিগ ব্যাং" নামক যে ধারণার জন্ম হলো তা জনপ্রিয় হয়ে উঠল। এই তত্ত্ব বলে মহাবিশ্ব একটা অতিক্ষুদ্র পরম বিন্দু থেকে জন্ম হয়েছে এবং ক্রমেই তা প্রসারিত হচ্ছে। 


১৯২৯ সালে এডউইন হাবল প্রমাণ করে দেন যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এখনো প্রশ্ন থেকেই যায়। 
যদি মহাবিশ্ব বিন্দু থেকেই সৃষ্টি হয় এবং প্রসারিত হয় তাহলে তা অসীম কীভাবে হলো?

আর সসীম হলে রিচার্ড বেন্টলির করা প্রশ্নের কীভাবে জবাব দেব আমরা?
বর্তমানে আরেকটি ধারণা উঁকি দিচ্ছে। অনেক বিজ্ঞানী ধারণা করেন যে বুদবুদের মতো অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব রয়েছে আর আমাদের এই মহাবিশ্ব সেসবের মধ্যে একটি মাত্র‌। 

 

শেষ কথা হলো এই যে মহাবিশ্ব সসীম না অসীম তার সম্ভাব্য উত্তর বিজ্ঞানীরা দিতে পেরেছেন তবে ভালো উত্তর পেতে আমাদের আরো উন্নত তত্ত্বের প্রয়োজন।


শাহরিয়ার আহমেদ

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সৈয়দপুর , নীলফামারী, বাংলাদেশ 




About the Author

Mystery Knowledge and Reality...!!!

১টি মন্তব্য

  1. So nice explanation
Information is wealth... MKR Web
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.