পানি দূষণ কি ?
- যখন পানিতে কোন অবাঞ্চিত বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান কৃত্তিম বা প্রাকৃতিকভাবে যুক্ত হয়ে পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য/গুনাগুণ নষ্ট করে তখন তাকে পানি দূষণ বলে।
পানি দূষণের কারণ কি ?
পানি দূষণের কৃত্তিম কারণ :
১.জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ
২.কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ জলাশয়ে ফেলা
৩. গবাদি পশুর বর্জ্য জলাশয়ের পানিতে মেশা
৪.জলাশয়ের পানিতে পলিথিন বা প্লাস্টিক ফেলা
৫. জাহাজের বর্জ্য, তেল সরাসরি সমুদ্রে ফেলা
৬.অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন/পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা
৭. নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে মেশা
পানি দূষণের প্রাকৃতিক কারণ :
১.প্রবল বন্যায় বিভিন্ন বর্জ্য পানিতে মেশা
২. সমুদ্র এলাকায় প্রবল জলোচ্ছ্বাস
৩. ভূমিকম্পের সময় মাটির নিচের বিভিন্ন দূষিত পদার্থ সমুদ্রের পানিতে মেশে
৪.আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
৫. এসিড বৃষ্টি
বায়ু দূষণের কারণে কি কি রোগ হয় ?
পানি দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগ :
১.কলেরা
২.আমাশয়
৩.ডায়রিয়া
৪.হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস ডি
৫.ফ্লু জাতীয় রোগ
৬.পোলিও (শিশু পক্ষাঘাত )
৭.আর্সেনিকোসিস
৮.ট্র্যাকোমা (চোখের সংক্রমণ)
পানি দূষণ প্রতিকারের ও প্রতিরোধের উপায় কি ?
বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম
পানি দূষণের প্রতিকার :
পানি দূষিত হওয়ার পর সেই পানি বিভিন্ন উপায়ে দূষণমুক্ত করাকে পানি দূষণ প্রতিকার বলে যেমন -
১. পানিতে ব্লিচিং পাউডার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মিশিয়ে পানি পান করা
২.পানি ফুটিয়ে পান করা
৩. ইলেকট্রিক ফিল্টার বা সাধারণ ফিল্টারের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ
৪. পানি পাতন, ঊর্ধপাতন, থিতানো
পানি দূষণ প্রতিরোধ :
পানি যেন দূষিত না হয় সেজন্য গৃহীত পূর্ব পদক্ষেপ সমূহকে পানি দূষণ প্রতিরোধ বলে । পানি দূষণের কারণগুলো সমাধান করলেই পানি দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ; যেমন -
১.রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করতে হবে।
২.কলকারখানার বর্জ্য শোধন করে মাটিতে নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে ফেলতে হবে।
৩. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করতে হবে।
৪.পলিথিন বা প্লাস্টিক হজম করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৫.পলিথিন বা প্লাস্টিক রিসাইকেল করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।
৬. জাহাজের বর্জ্য পদার্থ শোধন করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
৭. পয়ঃনিষ্কাশনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮. প্রতিবছর নদী খনন করতে হবে যাতে করে প্রবল বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়।
