করেছেন, তখনই সভ্যতার গতিপথ বদলে গেছে।
একধরনের ধনাত্মক শক্তিকে অন্য ধরনের ধনাত্মক শক্তিতে রূপান্তর করা, এটাই শিল্পভিত্তিক সমাজব্যবস্থার মূল কথা ।
মৌলিক বল : প্রকৃতিতে চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
১. মহাকর্ষ,
২. তড়িৎচৌম্বক বল,
৩. শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বল এবং
৪. দুর্বল নিউক্লিয়ার বল।
মহাকর্ষ বল :
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বলের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।
মৌলিক বলগুলোর মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল। এর পাল্লা অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বলে মহাকর্ষ আসলে বল নয়। বস্তুর ভর এবং শক্তির জন্য স্থান-কালের বেঁকে যাওয়ার ফলে কম ভারী বস্তু বেশি ভারী বস্তুর দিকে বক্র স্থান-কালের মধ্য দিয়ে পড়তে থাকে। এ পড়তে থাকার ব্যাপারটিই মহাকর্ষ । বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, গ্রাভিটন নামের একটি কণা এ বলের বাহক। তবে এ কণাটি আজও আবিষ্কৃত হয়নি ।
কাজ :
১. গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ হলো নীরব বল, যা আমাদের পা কে মাটির সঙ্গে আটকে রাখে।
২. পৃথিবী ও নক্ষত্রগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করছে এবং সৌরজগৎ ও গ্যালাক্সিকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে।
৩. মহাকর্ষ ছাড়া গ্রহের ঘূর্ণনের কারণে আমরা পৃথিবী ছেড়ে সেকেন্ডে ১০০০ মাইল বেগে মহাশূন্যে ছিটকে যেতাম।
৪. মহাকর্ষ আকর্ষণধর্মী, বিকর্ষণধর্মী নয়।
৫. অন্য বলগুলোর তুলনায় এটি খুবই দুর্বল। কিন্তু তারপরও তা বিপুল দূরত্ব থেকেও ক্রিয়া করতে পারে।
তড়িৎচৌম্বক বল :
দুটি চার্জিত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে তড়িৎচৌম্বক বল বলে। এ বলের বাহক হচ্ছে আলোর কণা ফোটন।
কাজ :
১. ইলেকট্রোম্যাগনেটিজম (ইএম) বা বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল আমাদের শহরগুলোকে আলোকিত করে।
২. লেজার, রেডিও, টিভি, আধুনিক ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, চুম্বকত্ব-সবই বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বলের ফল।
৩. মানবজাতির পোষ মানানো সবচেয়ে উপকারী বল সম্ভবত এটিই ।
৪. যে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব আছে, তা আলোর গতিতে চলাচল করে। তাই আলো নিজেও একটি তরঙ্গ ;
আলো সম্পর্কে এই ধারণায় অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী সময়ে রেডিও, রাডার, টেলিভিশন, কম্পিউটারের জন্য তারহীন সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে ।
৫. এমনকি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার অধিকাংশ প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে ।
৬. মহাকর্ষের বিপরীতে, এটি আকর্ষণ ও বিকর্ষণ দুটোই করতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :
(আলো হলো বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের অন্যতম প্রকাশ )
চারপাশে আমরা যে বাস্তবতা দেখি তা আসলে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বর্ণালির অতিক্ষুদ্র একটা অংশমাত্র ।
আমরা শুধু সেসব রংই দেখি, আমাদের চোখের কোষের সমান যেমন - অতিবেগুনি রশ্মি দেখতে পারে মৌমাছি ।
একটা চলমান চুম্বকীয় ক্ষেত্র একটা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে যেমন -
একটা তারের বলয়ের মধ্যে একটা চুম্বক ঘোরালে ওই তারে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় ।
তেমনি একটা চলমান বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রও চুম্বকশক্তি তৈরি করতে পারে
শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বল :
এ শক্তিশালী বলটির পাল্লা খুবই অল্প। তবে এর শক্তি প্রচণ্ড। এ বলবাহী কণার নাম গ্লুওন। এ বলের কারণেই পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যকার প্রোটনরা পরস্পর বিকর্ষণ করলেও, নিউক্লিয়াস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারে না।
কাজ :
১. এ বল পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে একত্রে আটকে
রাখে।
২. সূর্য ও নক্ষত্রদের শক্তি উৎপন্ন হয় এই নিউক্লিয়ার বল থেকে, যা মহাবিশ্বকে আলোকিত করার জন্য দায়ী।
৩. সমস্যাটি হলো নিউক্লিয়ার বল স্বল্পপাল্লার বল, যা মূলত নিউক্লিয়াসের দূরত্বে কার্যকর। এই বল নিউক্লিয়াসের ধর্মের সঙ্গে আবদ্ধ হওয়ার কারণে একে কাজে লাগানো খুব কঠিন।
৪. বর্তমানে এই বলকে কাজে লাগানোর একমাত্র উপায় হলো অ্যাটম স্ম্যাশারে অতিপারমাণবিক কণায় বিভক্ত করা কিংবা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো।
দুর্বল নিউক্লিয়ার বল :
এটি তড়িৎচৌম্বক বল থেকে প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ দুর্বল। তবে মহাকর্ষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের পেছনে এ বল দায়ী। তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস ক্ষয় হয়ে, সেখান থেকে যে বিটা ইলেকট্রন বের হয়, তার কারণ এ দুর্বল নিউক্লিয়ার বল। এ বলের বাহক কণা ৩টি : W+, W- এবং Z⁰ ।
কাজ :
১. দুর্বল নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক বল হলো তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের বল।
২. এই বলটিই পৃথিবীর কেন্দ্রকে উষ্ণ রাখছে, যা রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয়।
৩. আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প এবং মহাদেশীয় চলনের পেছনে এই বলটি কাজ করে।
.webp)