বায়ু দূষণ কি ?
- যখন বায়ুতে কোন অবাঞ্চিত বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান কৃত্তিম বা প্রাকৃতিকভাবে যুক্ত হয়ে বায়ুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য/গুনাগুণ নষ্ট করে তখন তাকে বায়ু দূষণ বলে।
বায়ু দূষণের কারণ কি ?
বায়ু দূষণের কৃত্তিম কারণ :
১.জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ
২.ইট ভাটা, যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া
৩. গবাদি পশুর বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা
৪.ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন
৫. অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন
৬.দূর্বল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা
৭. পারমাণবিক বিষ্ফোরণের কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ :
১.তীব্র দাবানলের কারণে বন ধ্বংস হওয়া
২. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
৩. তীব্র ক্ষরা/তাপদাহ
৪.স্থলভাগে টর্নেডো, ধূলিঝড় হওয়া
বায়ু দূষণের কারণে কি কি রোগ হয় ?
বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগ :
১.শ্বাসনালির সংক্রমণ , ফুসফুসীয় ব্যাধি
২.ফুসফুসের ক্যান্সার
৩.হৃদরোগ এবং স্ট্রোক
৪.শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত ও স্নায়ুর ক্ষতি
৫.দৃষ্টিহীনতা, পেটের ব্যথা
৬.মানসিক ব্যাধি যেমন বিষণ্নতা
৭.অ্যালার্জির সমস্যা
৮.গর্ভবতী নারীদের শারীরিক ক্ষতির অন্যতম কারণ, প্রসবকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি , ভ্রূণের সমস্যা, জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হওয়া
বায়ু দূষণ প্রতিকারের ও প্রতিরোধের উপায় কি ?
বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম
বায়ু দূষণের প্রতিকার :
বায়ু দূষিত হওয়ার পর সেই বায়ুকে বিভিন্ন উপায়ে দূষণমুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করাকে বায়ু দূষণ প্রতিকার বলে যেমন -
১. বাইরে বা রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করা
২.হাসপাতালে রোগীকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা
৩. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের সবসময় ইনহেলার সঙ্গে রাখা
৪. পারমাণবিক বিষ্ফোরণের নির্দিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলা
বায়ু দূষণ প্রতিরোধ :
বায়ু যেন দূষিত না হয় সেজন্য গৃহীত পূর্ব পদক্ষেপ সমূহকে বায়ু দূষণ প্রতিরোধ বলে । বায়ু দূষণের কারণগুলো সমাধান করলেই বায়ু দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ; যেমন -
১.রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করতে হবে।
২.কলকারখানার বর্জ্য শোধন করে মাটিতে নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে ফেলতে হবে।
৩. ইট ভাটা, কলকারখানায় উঁচু চিমনি ব্যবহার করতে হবে
৪. একটি গাছ কাটলে ৩টি করে গাছ লাগাতে হবে
৫. পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন ও শিল্পায়ন করতে হবে
৬.বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭. পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে
