এতদিন আমরা জানতাম যে ,
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করে সমুদ্রের মধ্যে থাকা শৈবাল ।
তবে এই ধারণা যে সম্পূর্ণ নয়, তা সম্প্রতি প্রমাণ করেছে বিজ্ঞানীরা ।
তারা জানিয়েছে যে সূর্যালোকের উপস্থিতি অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য নয়। সমুদ্রের গভীরে, যেখানে সূর্যালোক পৌঁছায় না, সেখানে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছে।
কিভাবে সূর্যালোক ছাড়াই তৈরি হচ্ছে অক্সিজেন ?
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে, প্রায় ১৩ হাজার ফুট
(৪ হাজার মিটার) গভীরে, যেখানে সূর্যালোকের পৌঁছানোর কোনও সম্ভাবনা নেই, সেখানে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছে।
এই অক্সিজেন 'ডার্ক অক্সিজেন' বা 'অন্ধকার অক্সিজেন' নামে পরিচিত এবং এটি রাসায়নিক ধাতব বিক্রিয়ার (ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ার ) মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ।
গভীর সমুদ্রে এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপন্ন হচ্ছে যা সেই অন্ধকার সমুদ্রের জীবনকে টিকিয়ে রাখছে ।
এই গবেষণা সম্প্রতি নেচার জিও সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা বলছে যে সালোকসংশ্লেষণ ছাড়াও অক্সিজেন তৈরি হয় পৃথিবীতে।
সম্ভাব্য প্রক্রিয়া :
• পানির রেডিওলাইসিস :
এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত অন্ধকার ভূতাত্ত্বিক বাস্তুতন্ত্রে সংঘটিত হয়, যেমন অ্যাকুইফার, যেখানে আশেপাশের শিলায় তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলির ক্ষয় পানির অণুগুলির ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যায়, যা " অক্সিজেন " তৈরি করে।
• সারফেস-বাউন্ড র্যাডিকেলের অক্সিডেশন :
সিলিকন-বহনকারী খনিজ যেমন কোয়ার্টজ,
পৃষ্ঠ-আবদ্ধ অক্সিডেশনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, যা অক্সিজেন উৎপাদনে অবদান রাখে।
[ উইকিপিডিয়া ]
ভূপৃষ্ঠেও কৃত্তিমভাবে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ার (পানি থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পৃথকীকরণ ) মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব তবে তা প্রচুর পরিমাণে শক্তি ব্যয় করে সে তুলনায় অতি নগন্য পরিমাণ অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।
এর আগে, ২০১৩ সালে, স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেরিন সায়েন্সের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু সুইটম্যান প্রশান্ত মহাসাগরে ফিল্ডওয়ার্কের সময় 'ডার্ক অক্সিজেন' আবিষ্কার করেছিলেন।
সুইটম্যান এবং তার দলের অন্যান্য বিজ্ঞানীরা ক্লারিওন-ক্লিপারটন জোনে গভীর সমুদ্রের ইকোসিস্টেম নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং সেখানে 'অন্ধকার অক্সিজেন' এর খোঁজ পান । সুইটম্যান বলেন, "এখন আমরা জানি যে গভীর সমুদ্রেও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, যেখানে কোনও আলো নেই। এটি আমাদের আরও গভীরভাবে বায়বীয় জীবনের উৎপত্তি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করবে।"
তথ্য সূত্র : ইন্টারনেট

